বর্তমানে ভারতে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে অবহেলা করার ঘটনা বেড়ে চলেছে । নিজেদের বাড়ি থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া বা তাদের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল ও শোষণ করার ঘটনাও আর বিরল নয় । এরকম সমস্যার আইনি সমাধান হিসেবেই প্রণীত হয়েছে “The Maintenance and Welfare of Parents and Senior Citizens Act, 2007” (পিতা-মাতা ও প্রবীণ নাগরিকদের ভরণ-পোষণ ও কল্যাণ আইন, ২০০৭)।
বৃদ্ধ পিতা-মাতা বা কোন প্রবীণ নাগরিককে যেন জীবনের শেষ পর্বে অভাব -অবহেলার মধ্যে না থাকতে হয়, এবং যাতে তাদের ভরণ-পোষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, এটাই এই আইনের উদ্দেশ্য ।
🔹 পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের অধিকার (Section 4)
বয়স্ক অভিভাবক বা পিতামাতা যদি নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে অক্ষম হন, তাহলে তারা এই আইনের মাধ্যমে সন্তানের কাছ থেকে ভরণ-পোষণ দাবী করতে পারেন ।
🔹 পিতা-মাতাকে পরিত্যাগ করা বা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া অপরাধ (Section 24)
আইন স্পষ্টভাবে বলেছে, যদি কেউ তার পিতা-মাতা বা প্রবীণ অভিভাবককে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ বা অবহেলা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বাধিক ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড,অথবা সর্বাধিক ৫,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই রুজু করার বিধান রয়েছে।
🔹 সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকার ও বাতিলের বিধান (Section 23)
অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় পিতা-মাতা বা প্রবীণ নাগরিক নিজেদের সম্পত্তি একটি গিফট ডিড বা দানপত্রের মাধ্যমে, সন্তান বা অন্য কোন আত্মীয়কে লিখে দেন । এবার সেই সন্তান বা সেই আত্মীয় যদি পিতা-মাতা বা প্রবীণ নাগরিককে অবহেলা বা পরিত্যাগ করে, বা ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করা বন্ধ করে দেয়, তাহলে সেই গিফট ডিড বা দানপত্র বাতিল ক’রে দেওয়ার ক্ষমতা পিতা-মাতা বা প্রবীণ নাগরিকদের আছে ।
🔹 কবে, কোথায়, কীভাবে ?
অবহেলা, পরিত্যাগ বা সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে-সঙ্গেই এলাকার এসডিও অফিসে গিয়ে, আইনজীবীর মাধ্যমে The Maintenance and Welfare of Parents and Senior Citizens Act, 2007-এর নির্দিষ্ট ধারায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে । এক্ষেত্রে, কোন প্রবীণ নাগরিক চাইলে সরকারের থেকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিতে পারেন লিগাল এইডের আইনজীবীদের মাধ্যমে ।
আমাদের সমাজে সাধারণ মানুষের যৌবন এবং প্রৌঢ়ত্বের অধিকাংশই কাটে সন্তান প্রতিপালনে । জীবনের সায়াহ্নে এসে সেই সন্তানই যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, অসহায় লাগে, তখন আইন পাশে থাকবে । কারণ আইন তো আসলে মানুষেরই বানানো, মানুষের জন্যই …
সোহম ব্যানার্জী, আইনজীবী
কলকাতা হাইকোর্ট